Advertising
hemel
Advertising
hemel

ডিমলায় মামাতো ভাইয়ের ধর্ষনে প্রতিবন্ধি অন্ত:সত্ত্বা !

মাসুদ রানা বকুল, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ বিচারের বাণী যেন নিভৃতে কাঁদে। কে করবে বিচার ? কে বাড়াবে সাহায্যের হাত ? আর কেই বা দাঁড়াবে এই প্রতিবন্ধির পাশে ? এসব নানা প্রশ্নে জল্পনা আর কল্পনায় এখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাবা মৃত উমর উদ্দিন প্রায় দেড় বছর পূর্বে পরলোক গমন করেন। অসহায় ও হতদরিদ্র উমর উদ্দিনের সংসারে ছিলো ২ মেয়ে ১ ছেলে। দীর্ঘদিন সংসার জীবনে কোন মতে জীবন ধারন করে চলতো সংসার। বাবা উমর উদ্দিন ও মা আহেলা বেগমের সংসারে আসে পারভীন আক্তার (২৫)। ছোট্ট বেলায় পারভীন অসাবধানতা বশত: আগুনে পুরে পারভীনের পায়ের গোড়ালী। সে থেকে আর পারভীনের পা ভালো হয়নি। ফলে কোন মতে পোড়া পায়ের উপড় ভর দিয়ে চলাফেরা করতো সে। বাবা-মায়ের জৈষ্ঠ্য কন্যা হওয়ায় প্রায় ৩ বছর পূর্বেই উমর উদ্দিন পারভীনের বিয়ে দেন একই ইউনিয়নের মহাজেরিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বে কছুমদ্দিনের পুত্র আব্দুল কাদেরের সাথে। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে পারভীনের স্বামী আব্দুল কাদের পরকীয়ার জেরে কাদের জেল-হাজতে চলে যায়। সে থেকেই প্রতিবন্ধি পারভীন তার বাবা-মায়ের বাড়ীতেই থাকে।

এরইমধ্যে পারভীনের বাবা উমর উদ্দিন মারা যায়। এরপর থেকেই পারভীনের সাথে ছলে বলে কৌশলে আপন মামা আহম্মদ আলী ওরফে আমল এর পুত্র মামাতো ভাই মানিক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। দীর্ঘদিন ধরে এ সম্পর্কের কারনে এখন প্রতিবন্ধি পারভীন ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। প্রতিবন্ধি পারভীন অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জন। আপন মামাতো ভাইয়ের ধর্ষনের শিকার পারভীন ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা এ খবর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গ্রামের সর্বত্রই। অসহায় দরিদ্র বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া পারভীন এখন বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কেহই করছে না বিচার। এমনটাই দাবী করে প্রতিবন্ধি পারভীনের মা আহেলা বেওয়া জানায়, আমি মানুষের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করি। প্রায় সময়ে বাড়ীতে থাকি না।

সুযোগ বুঝে আমার আপন ভাইয়ের ছেলে মানিক পারভীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় অন্ত:সত্ত্বা হয়েছে আমার মেয়ে। অসুস্থ্য এই মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিচার চেয়েছি কিন্তু কেহই করছে না বিচার। অর্থাভাবে মামলা মোকদ্দমাও করতে পারছি না। দিশেহারা হয়ে পরেছি আমি। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বুড়িরহাট গ্রামের মৃত উমর উদ্দিনের কন্যা প্রতিবন্ধি পারভীন অন্ত:সত্ত্বার ঘটনায় মা আহেলা বেওয়া উপজেলা ব্র্যাক আইন সহায়তাকারী ফিল্ড অর্গানাইজার নিখিল চন্দ্র বর্মণের কাছে আবেদন করলেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা। এদিকে প্রতিবন্ধি পারভীন সাংবাদিকদের জানান, আমাকে জোড় করেই মুখে কাপড় দিয়ে রেখে খারাপ কাজ করেছিল মানিক। আমার মা সেদিন বাড়ীতে ছিলো না। এ ঘটনার সময় মানিকের চাচাতো ভাই হাসান ঘরের বাইরে ছিলো।

এখন আমার পেটে বাচ্চা রয়েছে। মায়ের সাথে আমি ডাক্তারের কাছে আলট্রাসনোগ্রাম করেছি। ব্র্যাকে গিয়ে বিচার দিয়েছি। বর্তমানে আমার মামা আহম্মদ আলী ও মামী আমাদের উপড় অত্যাচার করছে প্রতিদিন। এ জন্য বাড়ীতে থাকতে পারি না। পালিয়ে বেড়াই মা ও আমি। মামা-মামী তার ছেলে মানিকের নাম বাদ দিয়ে অন্যলোকের নাম বলতে বলে। আমি তাদের কথা শুনিনা তাই তারা অত্যাচার করছে।

এ ব্যাপারে নিখিল চন্দ্র বর্মণ জানান, আমি অবৈধ অন্ত:সত্তার ঘটনার অভিযোগ পেয়ে তাদেরকে ডাক্তারী পরীক্ষা নিরিক্ষার পরামর্শ দিয়েছি। প্রয়োজনে আইনী সহায়তা দেওয়া হবে। খালিশা চাপানী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে আমার কাছে কেহই আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় ডিমলা উপজেলা একতা প্রতিবন্ধি কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সাংবাদিক বাবু নিরঞ্জন দে ও সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেছেন।

Related posts