Advertising
hemel
Advertising
hemel

মিরসরাইয়ে আগামী ১৫ বছরে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাজ হবে

রেদোয়ান জনি, মিরসরাই প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইপিজেডগুলোতে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। তাছাড়া ৫’শ একরের উপরে বড় কোন ইপিজেড নেই। তাই ২০১০ সালে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত ইকোনোমি ক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি শুরু হয়। আমি যখন ২০১৪ সালে বেজার দায়িত্ব নিই তখন বেজার কোন জনবল, অর্থ ছিলো না। কোন ব্যাংক একাউন্টও ছিলো না। ওখান থেকে ইকোনোমিক জোনের যাত্রা শুরু হয়। ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠা করার জন্য হবিগঞ্জ, মোংলা, সিলেট, সিরাজগঞ্জ, আনোয়ারা সহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেও জায়গা বের করা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু মিরসরাইতে রয়েছে অফুরন্ত জায়গা। মিরসরাইতে শুরুতে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কনসালটেন্ডের সিকে বিনেসের সহায়তায় কাজ শুরু করি। আমি ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে মিরসরাইয়ে সমীক্ষা চালালে তারা বলে মিরসরাইয়ে ইকোনোমিক জোন হবেনা। কেননা এখানকার মাটি ভালো না, কাঁদা মাটি। তারপর বিল্ডিং রিচার্সের পরিচালক মো: সাদেক কে দেখালে তিনি বলেন মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোন করা সম্ভব। পরবর্তী ওয়ার্ল্ড ব্যাংক মিরসরাইতে ৫’শ ৫০ একর জমির অনুমোদন দেয়। এরপর বাকীটা ইতিহাস। এরপর আমরা সরকারকে বিশ্বাস করাতে পেরেছি যে মিরসরাই ও ফেনীতে আশেপাশের দেশের চেয়ে বড় ৩০ হাজার একর জমিতে ইকোনোমিক জোন করছি। শুক্রবার (১৯ মে) বিকেলে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান প্রবন চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে প্রচুর বিদেশী বিনোয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আগামী বছর নাগাদ তা বাস্তবে রূপ নিবে; দৃশ্যমান হবে সবার কাছে। এবছর ১’শ ৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট করছি। যা ক্রমান্বয়ে ১ হাজার মেগাওয়াট হয়ে যাবে। এছাড়া চাইনিজরা ১৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে। মিরসরাই শুধু শিল্পাঞ্চল নয় এটি পাওয়ারের কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে। মিরসরাইয়ের পাশ্ববর্তী ভারতীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আছে। মিরসরাই সমুদ্র ছাড়াও চট্টগ্রামে বন্দর ও বিমান বন্দর রয়েছে। ভারত এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ১ হাজার ৫৪ একর জমি চেয়েছে। এটার উন্নয়ন করার জন্য ৮’শ কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তি করেছে। আইটি পার্ক করার জন্য ৭’শ ২০ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য কনফার্ম করেছে।

বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ১২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের মধ্যে ৯৫ ভাগ ব্যায় হচ্ছে মিরসরাইতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২’শ কোটি টাকার কাজ করছে। বেজা আগামী এক দুই বছরের মধ্যে মিরসরাইতে আরো ১ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে বেজা এই বছর ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কাজ করছে। এখন যে মিরসরাই দেখা যাচ্ছে ৫ বছর পর মিরসরাই চট্টগ্রামের চাইতেও অনেক বেশী সুন্দর শহরে পরিণত হবে। এর অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, অনেক সুবিধা আছে। এখানে প্রচুর বিনিয়োগ হবে। অনেক কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশের মিরসরাই হবে টেকনোলজি ট্রান্সফারের অন্যতম কেন্দ্র। বাংলাদেশের ইনভেস্টমেন্টের ক্যাপিট্যাল হবে মিরসরাই। আগামী বছর মিরসরাই অপরিচিত মনে হবে।

মিরসরাই হবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ রাজধানী। বাংলাদেশে আগে যে ধরণের শিল্প হয়নি তা হবে মিরসরাইতে। মিরসরাইতে পরিকল্পিত উন্নয়ন হবে।
ইকোনোমিক জোনে কাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ইকোনোমিক জোনে যাতায়াতের জন্য আবুতোরাব থেকে প্রায় ৫০ কি.মি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। যা ‘শেখ হাসিনা স্মরণী’ নামে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে বিমানবন্দরও হবে। মিরসরাইয়ের শেষ সীমান্তে সীতাকুন্ড এলাকায় একটি পোর্ট নির্মাণের সক্ষমতা যাচাই চলছে। চীন মিরসরাইতে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প করতে চায়। আগামী ১৫ বছরে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাজ হবে মিরসরাইতে। ইকোনোমিক জোনে চট্টগ্রাম ব্যবহার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো চট্টগ্রাম বন্দর। এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে যোগাযোগ অন্যতম কারণ। মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে রেলওয়ে লাইন নির্মাণের চেষ্ঠা চলছে। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান করার জন্য সমুদ্রের পাশে হওয়া অন্যতম সুযোগ।

ইকোনোমিক জোনের পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে যাতে পরিবেশ দূষণ না হয় সেজন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আইএফসি, জার্মানীর সাথে কাজ করছি। কারখানার বর্জ্য যাতে পরিশোধিত না হয়ে পানিতে না মিশে সেজন্য আমরা সর্তক রয়েছি। মিরসরাইয়ের পরিবেশের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য আমরা কাজ করতেছি। ইকোনোমিক জোনের ভেতরে মাটি ভরাটের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ তৈরীর কাজও শুরু হয়ে গেছে। মিরসরাইতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। তাদের আবাসনের জন্য বাড়ি ঘর তৈরী করতে হবে। এখানে ইঞ্জিনিয়ার কলেজ, প্রাইভেট স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল আমরা তৈরী করবো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার জন্য টেকেরহাট বেড়িবাঁধকে দুই লেইন সড়ক করে মুহুরী প্রজেক্টের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে জোরারগঞ্জ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যোগাযোগ করা যাবে। এখানে ভারতীয়, চাইনীজ সহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। ইকোনোমিক জোনে ৫টি লেক হবে। প্রতিটি লেক হবে ১’শ একর করে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শেখ হাসিনা সরবর’। লেকের পাশে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পার্ক সহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করা হবে। আমি না থাকলেও মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোন হবে। যা তৈরী হলে মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুরকেও ছাড়িয়ে যাবে মিরসরাই। মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠায় বেজাকে মিরসরাইতে সকল ধরণের সাহায্য-সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি।’

বেজার পরামর্শক কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়া আহমেদ সুমনের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ মিরসরাই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেজা সদস্য ড. এম এমদাদুল হক (অতিরিক্ত সচিব), চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, সমাপনী বক্তব্য রাখেন বেজা সদস্য হারুনুর রশিদ (অতিরিক্ত সচিব)।

সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্জেলর ডাক্তার ইসমাঈল খান, গণপূর্তমন্ত্রীর একান্ত সচিব ফয়েজ আহমদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, উপজেলার সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ এলাকাবাসী। সভায় উপস্থিত দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

Related posts