Advertising
hemel
Advertising
hemel

ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পথ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে কয়েকটি চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজতে মঙ্গলবার থিম্ফুতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শীর্ষ বৈঠকের পর দ্বৈত কর প্রত্যাহার, বাংলাদেশের নৌপথ ভুটানকে ব্যবহার করতে দেওয়া, কৃষি, সংস্কৃতি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে প্রতিবেশী দুই দেশ।

সকালে শেখ হাসিনা ভুটান পৌঁছলে পারো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী তোবগে। এরপর জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাজধানী থিম্ফুতে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুরের পর শেখ হাসিনাকে ভুটানের রাজকীয় প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিল ও রানি জেটসান পেমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

থিম্ফুর গ্যালয়ং শংখান-এ শীর্ষ বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “আলোচনার মধ্যে যেগুলো প্রমিনেন্টলি এসেছে সেগুলো হল দুদেশের কানেকটিভিকে ধরে ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি।” দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, “এই এমওইউ সইয়ের ফলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা হল। বিশেষ করে দ্বৈত করের ক্ষেত্রে। এতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসময় উপস্থিত ছিলেন। একাত্তরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদাতা দেশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব। সেই সম্পর্ককে ধরে রাখার জন্য ভুটানের রাজা বাংলাদেশকে একটা জমি দিচ্ছেন যেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস গড়ে তোলা হবে। সে বিষয়ে বুধবার একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে শহীদুল হক জানান।

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী ভুটানের সমর্থনও চেয়েছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জলবিদ্যুতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে শেখ হাসিনার। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “ওদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, হাইড্রো বিদ্যুতের যে সম্ভাবনা আছে, সেটা একটা গেইম চেঞ্জার হতে পারে এই অঞ্চলে। ভুটানে তিন দেশের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং এটা রিজওনালি ট্রান্সমিট করবে।” তিনি জানান, ভুটানের সরকার একটা ‘হেলথ ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করেছে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য। এই তহবিলে সহযোগিতা চেয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। “আরও একটা জিনিস অনেকদিন ধরে আলোচনায় ছিল যে, বাংলাদেশি ডাক্তারদের এখানে সরকারিভাবে চাকরির ব্যাপারটা।” দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত শহীদুল হক ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, “বিদেশি ডাক্তারদের এখানে চাকরি করলে মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত বেতন হবে। বাংলাদেশি ডাক্তাররা উৎসাহী হলে তাদের চাকরির সম্ভাবনা এখানে আছে।

“একইসাথে বর্তমানে ১২৩ জন ভুটানি ছাত্র বাংলাদেশে পড়ছে। এদের মধ্যে ডাক্তারিতেই বেশি। ওই খাতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য দুই প্রধানমন্ত্রীই এ ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন।” রংপুর মেডিকেল কলেজে ভুটানি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দের কথাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানান। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল নিয়ে বিবিআইএন নামে যে উপ-আঞ্চলিক জোট গঠনের কাজ চলছে তা নিয়েও দুই প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিবিআইএন এ এলাকার কানেকটিভির একটা প্রধান করিডর। এর বাস্তবায়নে ভুটানকে তিনি তাগাদা দিয়েছেন।” শহীদুল হক বলেন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজারের সঙ্গে ভুটানকে নিয়ে একটি ‘টুরিজম করিডোর’ কীভাবে তৈরি করা যায় তা খুঁজে দেখতে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের মধ্য দিয়ে ফাইবার অপটিকসের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটা প্রস্তাব ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।

“ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা; এটা সবাই মিলে যৌথভাবে করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল মিলে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে।” “উনারা বলেছেন, বিমসটেকের একটা বড় সম্ভাবনা আছে। তারা ভাবে যে এই বিমসটেককে কাঠামো করেই এই এলাকার উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা দানা বাঁধতে পারে।” শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন ভুটানকে।

দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন শেখ হাসিনা। তিন দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার সকালে শেখ হাসিনা রাজকীয় আপ্যায়ন হলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকালে শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে অটিজম ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্ট সমস্যার যথাযথ সমাধানে সক্ষমতা অর্জন শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

ভুটান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হযেছেন তার মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ; যিনি বাংলাদেশের জাতীয় অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন। অটিজম নিয়ে কাজের জন্য তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ‘চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন। সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

Related posts