Advertising
hemel
Advertising
hemel

ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশায় ঝিনাইদহের কৃষকরা !

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভুট্টা চাষীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে বিরামহীন ভাবে কৃষি বিভাগ ছুটছে কৃষকের মাঠে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে কৃষি বিভাগ কৃষক-কৃষানীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেছে। ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ ভুট্টা চাষ করতে নানা ভাবে উৎসাহ যোগাচ্ছে কৃষকদের। যার ফলে এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল ফলন পেয়ে হাসছে গ্রাম অঞ্চলের কৃষক।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ভুট্টা আবাদ হয়েছিলো ১১২০ হেক্টর জমিতে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আবাদ হয়েছিলে ২২৪০ হেক্টর জমিতে এবং ২০১৬-১৭, অর্থ বছরে আবাদ হয়েছে ৩৭৬০ হেক্টর জমিতে। অথ্যাৎ ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের তুলনায় এবৎসর প্রায় চার গুন বেশী আবাদ হয়েছে।

ঝিনাইদহের সিমান্ত জীবনা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে মিলন মিয়া বলেন, আবহাওয়া ও যতেœর কারণে এ বছর আমার ৩ বিঘা ভুট্টায় বাম্পার ফলন হতে পারে বলে আমরা আশাবাদী। সাধুহাটি এলাকার আসাননগর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এবছর তিনি ৩ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছে। আবহাওয়া অনুকুলে ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ক্রমে বিজ্ঞান সম্পত ভাবে চাষ করাই এ বছর ফলন হয়েছে।

পোতাহাটির কৃষক খোকন ও নুরআলম জানান, এবছর ভুট্টার আবাদ খুব ভাল হয়েছে। এত ভালো ভোট্টার উৎপাদন কয়েক বছরের মধ্যে হয়নি। বিগত কয়েক বৎসরের মধ্যে রের্কড পরিমান হয়েছে। সাগান্না ইউনিয়নের বাদপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক নাসির জানান, কৃষি বিভাগের উপসহকারি কৃষিকর্মকর্তা লতিফুর কবিরের পরামর্শ এ বছর আমাদের কাজে লেগেছে।

সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন জানান, সদর উপজেলায় কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে কৃষি অফিসার ড.খান মুহাম্মদ মনিরুলজ্জামান সবসময় কৃষকের সাথে মাঠে মাঠে পরামর্শ দেওয়ার কারনে আজ ঝিনাইদহ সদরে ভুট্টা ও অন্যআন্য চাষে নিরব বিপ্লব ঘটতে শুরু করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উপসহকারি কৃষিকর্মকর্তা মিলন ঘোস জানান, কৃষকরা কৃষি বিভাগের নিয়োম অনুয়াায়ী আবাদ করার কারনে এবার ভুট্টার আবাদ ভালো হয়েছে। সাগান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল মামুন জানান, তার ইউনিয়নে ভুট্টার ফলন খুবভালো হয়েছে। এতে করে কৃষি বিভাগ ঝিনাইদহকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ আরো অন্তরিক হলে কৃষক সকল ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করবে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি অফিসার ড.খান মুহাম্মদ মনিরুলজ্জামান জানান, আগামীতে ঝিনাইদহ জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আরো উৎসাহিত হবে, কারন ভুট্টা চাষে ব্যাপক লাভ। কাঁচা ভুট্টা বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ মন আবার কোন কোন জমিতে ৮০মন ভুট্টা উৎপাদন হয়ে থকে। ভুট্টা চাষে জমির উর্বার শক্তি বৃদ্ধি পায়। গত বছরের চেয়ে ভুট্টার দাম এবছর অনেক বেশি।

বিগত আর্থ বছরের ভুট্টার উৎপাদন লক্ষ করলে বোঝা যাবে কৃষক ও কৃষি বিভাগের ভুট্টা চাষের সফলতা। ঝিনাইদহে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ করে চলেছে। তাছাড়া কৃষক এখন বুঝতে শিখেছে উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে এবং এর জন্য পরামর্শ নিতে হলে কৃষিবিভাগে যেতে হবে ।

Related posts