Advertising
Advertising

এক যুগ ধরে জনসম্মুখে পোষা প্রাণীদের মতই বাদুরের বসবাস

মোঃ ফজলে গাউস, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ বাদুর পৃথিবীর একমাত্র উড্ডয়ন ক্ষমতার অধিকারী স্তন্যপায়ী প্রাণী। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে বাদুরই একমাত্র উড়তে পারে। এদের দেহের গঠন হালকা, এরা পায়ের মাধ্যমে গাছে ডালে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এরা নিশাচর প্রাণী। দিনের বেলা এরা চোখে দেখেনা বলেই রাতে খাবারের সন্ধানে থাকে, দিনের বেলায় ঘুমায়। এরা চলাফেরার সময় উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ করে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এবং লোকমুখে শুনাযায়, বাদুর গুহায় কিংবা অন্ধকার জায়গায় থাকে। কিন্তু স্ব-চোখে দেখা মেলে এর ব্যতিক্রম।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের লংগারপাড় বাজার মান্নান মার্কেটের পাশ্বে গফরগাঁও- নান্দাইল রাস্তার ধারে ছোট জঙ্গলে একটি রেন্ট্রি গাছে সহশ্রাদিক বাদুরের বসবাস। এ বাজারে সার্বক্ষনিক তিন শতাদিক লোক থাকে, এ রাস্তা দিয়ে সব সময় সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এত লোকের ভীরেও প্রায় এক যুগ ধরে বসবাস করে আসছে বাদুর। এরা সন্ধায় দলে দলে বিভিন্ন দিকে বেরিয়ে যায় খাবারের খুঁজে। আবার রাতশেষে ভোর বেলায় ফিরে আসে একই স্থানে। কিছুক্ষণ কিছিমিছি শব্দ করে পা দিয়ে গাছের ডালে আঁকড়ে ধরে মাথা নিচে দিয়ে ঝুলে ঘুমিয়ে থাকে। দুপুরে দেখা যায় ডানা ছেড়ে হাত পাখার মত বাতাস করে আর কিছুক্ষণ কিছিমিছি শব্দ করে আবার স্থীর হয়ে যায়। এদের দেখে মনে হয় পোষা প্রাণীদের মতই বসবাস করছে।

গাছের মালিক আব্দুল মান্নান ভূইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাদুর এখানে থাকে। যদিও এরা পোষা প্রাণী নয় তবু এদের প্রতি আমি অনেকটা দুর্বল। এদের কোন ক্ষতি হোক কিংবা এখান থেকে চলে যাক তা আমি কখনও চাইনা। বছর খানেক আগে এক বেদে ঔষধ তৈরীর কথা বলে আমি বাধা দেওয়া শর্তেও দুইটি বাদুর মেরে নিয়ে যায়। পরে একে একে সব বাদুর চলে যায়। কয়েক দিন পর আবার ফিরে আসে। এসময়টায় আমি মানসিক ভাবে খুব কষ্ট পাই। এরপর থেকে বাদুর এখানেই বসবাস করছে। বাদুরের যাতে কোন ক্ষতি না হয় এদিকে তিনি সব সময় নজর রাখেন এবং তিনি চান এখানে আরো বাদুরের সমাগম গঠুক। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক এসে এ দৃশ্য উপভোগ করুক। লংগারপার বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া বলেন, এই এলাকা কিংবা আশেপাশে এলাকায় বাদুর খুব একটা ক্ষতি করে না। এলাকার রেনু মিয়া বলেন, বাদুরের সমগম দেখতে প্রায় সময়ই লোক জনের ভীর দেখা যায়। এলাকার একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রকৃতি প্রেমি মানুষ গুলো যেন বাদুরকে প্রকৃতির এক অপরুপ উপাদান হিসেবে মনে করেছে।

 

Related posts