Advertising
Advertising

আমেরিকায় স্টিভ জবসকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প!

আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশ নিষেধ বা তাদের বিতাড়নে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বেশ কয়েকটি দেশ থেকে মুসলমানদের প্রবেশের পথ বন্ধে নির্বাহি আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্য একটি দেশ হলো সিরিয়া। অনেকেই জানেন না, এ নির্দেশের মাধ্যমে ট্রাম্প যে কেবল মার্কিন মুলুকে মুসলমানদের নিষিদ্ধ করেছেন তাই নয়, তিনি বিতাড়িত করেছেন এ বিশ্বের প্রযুক্তি দুনিয়ার দিকপাল প্রয়াত স্টিভ জবসকে। সিরিয়ার মানুষদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে অনেক বিখ্যাত সিরিয়ান-আমেরিকানকেই অপমান করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হয়তো আপনারা ভাবছেন, সিরিয়ান-আমেরিকান বলতে হয়তো কোনো নামকরা শেফ হবেন। কিন্তু তার চেয়েও বেশি কিছু এখানকার সিরিয়ানরা।

এখন প্রশ্ন হলো, সিরিয়ানদের নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে স্টিভ জবসকে কিভাবে বিতাড়িত করা হলো? কেন-ই বা হয়নি। স্টিভের জন্মদাতা পিতা আবদুলফাত্তাহ ‘জন’ জানদালির জন্ম সিরিয়াতে। ১৯৩১ সালে সিরিয়ার হোমসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই এক মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা। জানদালি ছিলেন এক মিলিয়নিয়ার বাবার সন্তান। আবদুলফাত্তাহ নিজের প্রচেষ্টায় শূন্য থেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছিলেন। স্টিভের বাবা কলেজ শেষ করতে পারেননি। জবসের মা গতানুগতিক গৃহিনী বলতে যা বোঝায় তেমনটি ছিলেন না মোটেও। জানদালি আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের আন্ডানগ্র্যাজুয়েট ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে অনেকটা সময় জেলেই কাটাতে হয়েছে। আইন নিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও পরে অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আগ্রহী হয়ে পড়েন। পরবর্তিতে তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইসকন্সিনে পিএইডি করতে যান। সেখানে পরিচয় ঘটে জোয়ানে ক্যারোল শিয়েবলের সঙ্গে। এই জার্মান বংশোদ্ভূত নারী ছিলেন সুইজারল্যান্ডের এক ক্যাথলিক পরিবারের মেয়ে। বড় হয়েছেন উইসকন্সিনে। ডক্টোরাল ক্যান্ডিডেট হিসাবে জানদালি টিচিং অ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে কাজ করছিলেন। একই কোর্সের শিক্ষার্থী হয়েছিলেন জোয়ানে শিয়েবল। জানদালি এবং শিয়েবল একই বয়সী ছিলেন। এক সময় প্রেম হলো তাদের। কিন্তু এ সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি শিয়েবলের বাবা, এমনটাই জানান স্টিভ জবসের বায়োগ্রাফার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন।

এক গ্রীষ্মের ছুটিতে সিরিয়ায় জানদালির বাড়িতে বেড়াতে যান শিয়েবল। সেখানেই ১৯৫৪ সালে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। জানদালি বলতেন, তিনি শিয়েবলকে দারুণ ভালোবাসতেন।   ‘কিন্তু তার (শিয়েবল) বাবা যেন এক স্বৈরাচার। আমাকে বিয়ে করার জন্য মেয়ের মুখ দেখা বন্ধ করে দেন। যেহেতু আমি সিরিয়ার মানুষ, তাই শিয়েবল আমাদের বাচ্চাটিকে অন্য কারো কাছে দত্তক দিতে চায়’। জবস তার জীবনী লেখককে বলেছেন, সেই সময় শিয়েবলের বাবা অসুস্থ ছিলেন। তাই তার প্রতি নমনীয় ছিলেন মেয়ে। এক সময় দুজনই বুঝতে পারেন, বিয়ের জন্য মাত্র ২৩ বছর বয়স নেহাত কম। কিন্তু গর্ভের সন্তানকে দত্তক দেওয়া সহজ কথা নয়। তা ছাড়া সিরিয়ায় গর্ভপাত অবৈধ এবং মারাত্মক বিষয়। আবার দত্তক দেওয়া বা নেওয়ার সুবিধাটি একমাত্র আমেরিকার নারীরাই ভোগ করতেন সেই সময়।

জানদালি আর শিয়েবলের গল্পটা সত্যিই করুণ। এক তরুণী তার বাচ্চাকে অন্য কারো কাছে দিতে সান ফ্রান্সিকোতে পৌঁছলেন। অথচ সেই শিশুর পিতা আছেন যিনি স্ত্রীকে জীবন দিয়ে ভালোবাসেন। ১৯৫৪ এর সময়কার কথা। তখন এক তরুণী তার বাবা-মায়ের চাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সাহস করেননি। গর্ভের শিশুটাকেও তিনি ফেলে দিতে পারেননি। এটা কল্পনা করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না যে, স্টিভ জবস তার জন্মদাতা পিতা-মাতার কাছে কিভাবে বেড়ে উঠেছিলেন। তার বাবা একজন সিরিয়ান যার কাছে রয়েছে গ্রিন কার্ড। এখন তার সেই পরিবার নিষিদ্ধ হচ্ছেন আমেরিকাতে। তাদের একমাত্র অপরাধ- তারা সিরিয়ান। সূত্র: ডেইলিকস

Related posts