Advertising
hemel
Advertising
hemel

বছরের প্রথম দিনেই পর্দা উঠছে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার

বছরের প্রথম দিনেই পর্দা উঠছে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার

বছরের প্রথম দিনেই শুরু হচ্ছে সার মাসব্যাপী ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০১৭। এরই মধ্যে মেলার কাজ প্রায় শেষ। প্যাভিলিয়ন ও সাধারণ স্টল তৈরির কাজ শেষ করতে শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞে মুখরিত হয়ে আছে মেলা প্রাঙ্গণ।

গেলো বছরের মতো রোববার বিকেলে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেলা উদ্বোধনের কথা রয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেলার পার্শ্ববর্তী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। মেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে শনিবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে মেলাটি আয়োজন করে আসছে।

প্রথম নভেম্বর থেকে মেলার মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। পিডব্লিউডি, পিডিবিসহ অন্য সংস্থা কাজে অংশ গ্রহণ কারেন। বরাদ্দ প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করে নভেম্বর থেকে। ফলে গেলো কয়েক বছরের তুলনায় এবার আগেই মেলার প্রস্তুতি শেষ হলো। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, মূল ফটকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের আদলে তৈরি করা হয়েছে। ফটক পার হয়ে সামনের উঁচু টাওয়ারের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে টাইলস এবং ডেকোরেশনের কাজ। তাছাড়া সড়কের দু’পাশের স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজ প্রায় শেষ। এখন শ্রমিকরা ব্যস্ত মেলার ভেতরের সড়ক নির্মাণে। তবে ৩১ ডিসেম্বেরের মধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজসহ সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবি সুত্র জানায়, মেলায় ২১টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, নেপাল, জাপান, মরক্কো, ভুটান, আরব আমিরাত, মরিশাস ও ঘানা । তাছাড়া গেলো মেলার চেয়ে এবারের মেলায় ৭টি স্টল বাড়ানো হয়েছে। এবার সব ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, সাধারণ স্টল, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়নসহ ৫৬০টি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পণ্য নিয়ে অংশ নেবে। যা ২০১৬ সালে ছিল ৫৩৬টি।

ধারণার চেয়েও অনেক বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবার। মেলায় স্টল বরাদ্দ পেতে মোট আবেদন পড়েছে ১ হাজার ২৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে সাধারণ স্টলের জন্য। সাধারণ স্টলের জন্য লে-আউট প্ল্যান দেয়া হয়েছে ২৫৩টি। কিন্তু এর বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭১৭টি। অথচ গেলো বছর সাধারণ স্টলের জন্য লে-আউট প্ল্যান ছিল ২৮৭টি, আর চূড়ান্ত বরাদ্দ দেয়া হয় ২৮৬টি। ফুড স্টলের জন্য লে-আউট প্ল্যানে মোট স্টল রাখা হয়েছে ২৪টি। এর বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭৫টি।

সাধারণত মেলায় ১৩টি ক্যাটাগরি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে- সাধারণ প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, বিদেশি প্যাভিলিয়ন, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ, প্রিমিয়ার স্টল, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল ও ফুড স্টল প্রভৃতি।

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি করা হয়েছে। মেলায় পর্যাপ্ত আনসার,  পুলিশ, মহিলা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি থাকবে পোশাকধারী গোয়েন্দা। মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এ প্রথম বাণিজ্যমেলায় প্রবেশের টিকেট পাওয়া যাবে অনলাইনে। সহজ ডটকমের মাধ্যমে অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কাটতে পারবে দর্শনার্থীরা। এছাড়া আগের মতো মেলার বাইরেও থাকবে টিকেট সংগ্রহের সুযোগ। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই মেলা সকাল ১০ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৩০ টাকা। ছোটদের জন্য ২০ টাকা। মেলার পর্দা নামবে ৩১ জানুয়ারি।

Related posts