Advertising
hemel
Advertising
hemel

খুলনাকে হারিয়ে ফাইনালে সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস

চলতি বিপিএলে কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল গড়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, কুমার সাঙ্গাকারাদের মতো বিশ্ব তারকারা রয়েছেন এই দলে। গ্রুপ পর্বেই শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল তারা। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফে খেলতে আসে ঢাকা।  আরো একবার ঢাকা নিজেদের প্রমাণিত করলো, আসরের শক্তিশালী দল তারাই! সবার আগে বিপিএলের ফাইনালের টিকিটটাও পকেটে পুরলো সাকিব বাহিনী।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইটান্সকে ৫৪ রানে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তোলে সাকিবের দল। জবাবে ১৬.২ ওভারে খেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ৮৬ রানে।

তবে খুলনার ফাইনালে আশা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তাদের সামনে থাকছে আরেকটি সুযোগ। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহী কিংসের (এলিমিনেটর ম্যাচে নাটকীয় জয় পাওয়া) মুখোমুখি হবে মাহমুদউল্লাহর দল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল খুলনার। উদ্বোধনী জুটিতে দলের স্কোরশিটে ৩৪ রান করেন দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও হাসানুজ্জামান। খুলনার উদ্বোধনী এই জুটি ভাঙেন সাকিব। তিনি সাজঘরে ফেরান ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা আন্দ্রে ফ্লেচারকে। ২২ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ২৮ রান করেন এই ক্যারিবিয় ওপেনার।

সপ্তম ওভারে বল করতে এসে দুটি উইকেট তুলে নেন আন্দ্রে রাসেল। এই ওভারের প্রথম বলেই মাহমুদউল্লাহকে সাজঘরে ফেরান তিনি। আগের ম্যাচে খুলনার নায়ক মাহমুদউল্লাহ করতে পারেন মোটে ৫ রান। এই ওভারের চতুর্থ বলে হাসানুজ্জামানকে সরাসরি বোল্ড করেন রাসেল। হাসানুজ্জামানও করেন ৫ রান। বেনি হাওয়েলসকে (৪) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সানজামুল ইসলাম। আব্দুল মজিদ ব্যক্তিগত ৭ রানে কাটা পড়েন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। খুলনার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন আরিফুল হক। শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান।

ঢাকার হয়ে ৪ ওভারে ১৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। অলরাউন্ড পারফর্ম করায় ম্যাচসেরাও রাসেল। ডোয়াইন ব্রাভো ২.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে তিন উইকেট লাভ করেছেন। একটি করে উইকেট পকেটে পুরেছেন আবু জায়েদ, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সানজামুল ইসলাম। এর আগে ঢাকার সূচনাটাও ভালো ছিল না। দলীয় ১১ রানের মাথায় মেহেদী মারূফকে হারিয়ে বসে ঢাকা। ৬ বল মোকাবেলা করে একটি ছক্কায় মাত্র ৭ রানেই থেমে যান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ওপেনার। জুনায়েদ খানের বলে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মারূফ।

আরেক মারকুটে ওপেনার এভিন লুইসও সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১১ রান করা লুইস সাজঘরে ফেরেন জুনায়েদের শিকার হয়ে। আগের ম্যাচে ফিফটি করা কুমার সাঙ্গাকারার দৌড় থেমেছে মাত্র ৯ রানে। তিনিও শিকার ওই জুনায়েদের। নাসির হোসেন ১৬ বলে করেছেন ১৩ রান। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১৮ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ রান করে আন্দ্রে ফ্লেচারের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন। রানআউটে কাটা পড়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত করেছেন ৮ রান।

ঢাকার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন আন্দ্রে রাসেল। বেনি হাওয়েলের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের তালুবন্দি হওয়ার আগে মাত্র ২৫ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ঝড়ো ইনিংসটি খেলেন এই ক্যারিবিয়ান। ডোয়াইন ব্রাভো ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। খুলনার সেরা বোলার জুনায়েদ খান। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন পাকিস্তানি এই পেসার। ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট লাভ করেন আন্দ্রে ফ্লেচার। বেনি হাওয়েলের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি উইকেট।  

Related posts