Advertising
Advertising

দারুণ জয়ে শেষ চারে মাহমুদউল্লাহর খুলনা টাইটান্স

জয়ের বিকল্প কিছু ছিলো না। কেবল জয়ই শেষ চারে তুলতে পারতো খুলনা টাইটান্সকে। অন্যদিকে ঢাকার জন্য ম্যাচটি ছিলো নিজেদের আরেকটু এগিয়ে রাখার লড়াই। এমন ম্যাচে নিজেদের সেরা ইনিংসটাই খেলে ফেললো খুলনা।

তাতে শেষ হাসিও হাসলেন টাইটান্সরা। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে খুলনাকে ছয় উইকেটের দারুণ এক জয় উপহার দিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

পুরো বিপিএলেই খুলনাকে ব্যাটে-বলে পথ দেখিয়েছেন ডানহাতি এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। রোববার আরও একবার ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গেল তাকে। তার ৫০ রানের সুবাদেই ঢাকা ডায়নামাইটসকে ছয় উইকেট হারিয়েছে খুলনা।

এই জয়ে শেষ চার নিশ্চিত হয়ে গেছে ১২ ম্যাচে সাত জয় পাওয়া খুলনার। দুই নম্বরে উঠে আসায় নিশ্চিত হয়ে গেছে কোয়ালিফায়ার ম্যাচও। ৬ ডিসেম্বর মিরপুরে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষেই মাঠে নামবেন মাহমুদউল্লাহরা। ওই ম্যাচে হারলেও ফাইনালে ওঠার আরেকটি সুযোগ পাবেন তারা।

এদিকে, খুলনা-ঢাকা ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিলো রংপুর রাইডার্স। কিন্তু খুলনার জয়ে ছয় ম্যাচে জয় পাওয়া রংপুরের আশা শেষ হেয়ে গেছে। পঞ্চম স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। রোববার মিরপুরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে সাত উইকেটে ১৫৮ রান তোলে ঢাকা। জবাবে হাসানুজ্জামানের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে ছয় উইকেটের জয় তুলে নেয় খুলনা টাইটান্স।

জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় জয়ের নেশায় ডুবে থাকা খুলনা টাইটান্সকে। দলীয় ৯ রানেই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারকে হারায় তারা। ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক সাকিব আল হাসান উপড়ে নেন এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানের স্টাম্প। এমন নড়বড়ে শুরুর পরও ঢাকার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন আরেক ওপেনার হাসানুজ্জামান।

সঙ্গী হিসেবে আবদুল মজিদ থাকলেও স্ট্রাইক প্রান্তে হাসানাজ্জামানকেই বেশি দেখা গেছে। তিনি খেলতে শুরু করেন বিধ্বংসী স্টাইলে। নিজের প্রথম ১৫ বল থেকেই তুলে নেন ৩৮ রান। তবে হাসানুজ্জামানের তাণ্ডব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৯ বলে ৪০ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর আবদুল মজিদকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই শুরু করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

২১ রান করা মজিদকে বেশি সময় পাননি মাহমুদউল্লাহ। এতে অবশ্য খুলনার ইনিংসের ওপর প্রভাব পড়েনি। বলা চলে একাই খুলনাকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। তবে আট রান বাকি থাকতে ঘটে বিপত্তি।

২৮ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ৫০ রান করে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটুকু শেষ করেন অপরাজিত ২৬ রান করা বেনি হাউয়েল। এরআগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মন্দ হয়নি ঢাকা ডায়নামাইটসের।

উদ্বোধনী জুটি থেকে ৫৮ রান পায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দলটি। এসময় ১৬ রান করে বিদায় নেন মেহেদী মারুফ। এরপর নাসিরকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা পথ পাড়ি দেন ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলা কুমার সাঙ্গাকারা। নাসিরও বেশ ভালো ব্যাট করছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৯ রানে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হয় নাসিরকে।

এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যানই সাঙ্গাকারাকে সঙ্গ দিয়ে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১১, সেকুগে প্রসন্ন ১৪ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২০ রান করেন।

তবে অভিজ্ঞ সাঙ্গাকারা খেলেছেন সাবলীল ভঙ্গিমায়। ৪১ বলে আট চারে লঙ্কান এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। সাঙ্গাকারার ইনিংসের সুবাদেই সাত উইকেটে ১৫৮ রান তোলে ঢাকা। খুলনার হয়ে জুনায়েদ খান তিনটি উইকেট নেন।

Related posts