Advertising
hemel
Advertising
hemel

বাসর রাতে স্বামী যদি বুঝতে পারে আমি সতী না…!

“ভীষণ ইচ্ছা করে মন খুলে কাউকে জীবনের সব কথা খুলে বলি। তবে সেটা সম্ভব না। এতো বেশি ভুল আমার জীবনে। নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হয়। আমি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। আমরা মধ্যবিত্ত। তবুও বাবা মা আমার সব চাওয়া পূরণ করার চেষ্টা করে।

লেখাপড়ায় ছোটবেলা থেকেই মনোযোগ খুব কম। কিন্তু ভালো রেজাল্ট করি বরাবর। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করি ক্লাস সেভেনে। আমার কথিত এক বন্ধুর সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক হয়। দুজনেরই সম্মতিতে। এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ জানে আমার মতো ইনোসেন্ট মেয়ে আর হয়না।

ঐ কথিত বন্ধুর সঙ্গে এক বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলাম। কয়েক সপ্তাহ পর পরই যেতাম নিম্ন মানের হোটেলে। এক পর্যায়ে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। আমি এসব বন্ধ করে ওর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। সে আমার প্রেমিক ছিলোনা। বিয়ে করবে এরকম আশাও দেয়নি। এখন সে অনেক দূরে থাকে। কথা হয় মাঝে মাঝে । আমরা দুজনেই বিগত দিনের কাজের জন্য অনুতপ্ত।

এখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি। আমার অনেক ছেলের সঙ্গেই এমন সম্পর্ক ছিলো। সবাই আমাকে ধোঁকা দিয়ে চলে যায়। আমি তখন খুবই কষ্ট পাই।  আমার নানুর অনেক উচ্চ পর্যায়ের আর দাদুর ফ্যামিলি একটু নিম্ন পর্যায়ের। আমার অনেক আত্মীয়রা ইশারায় বুঝিয়েছে ভালো ছেলে খুঁজে আমার নিজেকেই বিয়ে করতে হবে। ফ্যামিলির মাধ্যমে ভালো জায়গায় বিয়ে হবেনা।

আমার মাথায় অনেক চিন্তা। আমার হাসবেন্ড নিশ্চই বুঝবে আমার ফিজিক্যাল রিলেশন হয়েছিল বিয়ের আগে। আমি এখন কি করবো? আমার পড়াতেও মন বসে না। ভালো একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। ভালো জব করতো। ও ফিজিক্যালি ক্লোজ হতে চাইতো, আমি রাজি হইনি তাই ব্রেকআপ করেছে। তাকেও  ভুলতে পারছিনা। প্লিজ একটা সমাধান দিন।

 ১.পরামর্শ:  আপনি বলেছেন, এখন আপনি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন। আপনার অনেক ছেলের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিলো সবাই আপনাকে ধোঁকা দিয়ে চলে যায়। এটা একটা ভয়াবহ লক্ষণ। সত্যি সত্যি যদি তাই হয়, তাহলে আপনার সোশিওপ্যাথ হয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রচুর। কিন্তু এ থেকেও মুক্তি রয়েছে। আপনি পরামর্শ চাইছেন। আপনি নিজেকেই শুধরে নিতে পারবেন যদি নিজের “ইগো” সরিয়ে রেখে পরামর্শ অনুসরণ করেন।

যা হবার তো হয়েছেই, আর কি ক্ষতি হবে। এই ভাবনা মাথায় আসতে পারে, কিন্তু ভুলেও তাকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমাদের মতো সমাজে “সতীত্ব”কে শরীরকেন্দ্রীক দেখা হয়, যদিও এটা সম্পূর্ণই মানসিক বিষয় বলেই আমি মনে করি। সুতরাং কিছুই হারানোর নেই, বরং পাওয়ার অনেক কিছু আছে, যদি নিজেকে শক্ত করে শুধরে নিতে পারেন।

বড় উপায় আছে এ থেকে উদ্ধার পাবার। তাতে আর কিছু না হোক, নিজের মধ্যে আত্মগ্লানিকে একটু ছাড় দেয়া যায়, নিজের অবস্থানকে যাচাই করা যায়। আর সত্যিকার অর্থে, ভবিষ্যতে যার সঙ্গে আপনার জীবন কাটবে, তার কাছে সত্য গোপন না করাটাই ভালো। তাতে অল্পসময়ের জন্যই হয়তো মুক্ত থাকবেন, কিন্তু আপনার “আনসেটেল্ড” অতীত সামনে এসে দাঁড়াতেই পারে।

তখন সেটা বিব্রতকর ও যেকোন বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়াবে।  তাড়াহুড়া করবেন না। একটা থেকে বাঁচতে গিয়ে আরেকটা সম্পর্কে জড়ানো কোন সমাধান নয়। তাকেই বেছে নিন, যে আপনাকে সবকিছু জেনে মেনে নিয়ে ভালোবাসে, আপনার সত্যিটুকু জেনে যদি সে চলে যায়, তাহলে বুঝবেন, সে ভালোবাসা আপনার জন্য না। তখন অপাত্রে ভালোবাসা দান করবেন না। আর যিনি সত্যি সত্যি আপনাকে বিশ্বাস করবেন, ভালোবাসবেন, তিনি সব কিছু জেনে মেনেই ভালোবাসবেন।

২. পরামর্শ: আপনি কি অবলীলায় একের পর এক ভুল করে ফেলেছেন? তারপরও সান্ত্বনা এটাই যে আপনি বুঝতে পারছেন যে এগুলো আপনার ভুল।    আপনার প্রেমিক মোটেও ভালো ছিল না। ভালো মানুষ হলে সে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য ব্রেকআপ করতো না। দ্বিতীয়ত, এত অল্প বয়সে একের পর এক প্রেম করা, ক্লাস সেভেনে ছেলের সাথে হোটেলে যাওয়া আর লেখাপড়ায় অমনোযোগী বলে বিয়ে করতে চাওয়া মোটেও কোন বুদ্ধিমতীর কাজ নয়। এমনকি মানসিক স্থিরতার লক্ষণও নয়। সত্যি কথাটা হচ্ছে এতে আপনি কোনদিনও সুখী হবেন না। বরং আপনার সমস্যা দিন দিন বাড়বে।

তাই এইসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। কখনো কি ভেবেছেন যে মা বাবা জানতে পারলে কি হবে? আপনার বাবার ফ্যামিলি নিচু, এই ধরণের চিন্তা মাথায়ই কি করে আসে। বিয়ে নিজের পছন্দেই করা উচিত, তবে সেটা অবশ্যই মা বাবার সম্মতিতে এবং যখন বিয়ের বয়স হবে তখন।তাই আপনার উচিত হবে মন দিয়ে লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। তারপর ভালো ছেলে দেখে বিয়ে করা।

Related posts