Advertising
hemel
Advertising
hemel

বিয়ে কি তা বুঝতাম না, বয়স্ক স্বামীর সঙ্গে বাসর রাত কাটাতে হলো

আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমি ক্লাস সেভেন এ পড়ি। বিয়েটা কি তা বুঝতাম না। পরিবার থেকেই আমার বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর বুঝতে পারলাম একজন বয়স্ক লোকের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। তার বয়স ৩৬ বছর আর আমার ১৪।

আম্মুকে আর পরিবারকে ভীষণ মিস করতাম। এমনকি বিয়ের পর আমাকে বাড়িতেও আসতে দেয়নি। খুব ছোট ছিলাম তাই খুব একটা ঘরের কাজ পারতাম না। আমার স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পর আমি খুব অসুস্থ হয়ে পরি। তখন আমার বাবা মা আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। আমার শ্বশুরবাড়ির কেউ আমাকে একবার দেখতেও আসেনি, এমনকি আমার স্বামীও না।

আমার সব বই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো। ছোটবেলা থেকে আমার কবিতা, ছোট গল্প সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। আমার উপর যেসব অত্যাচার হত সেটা আমার মাথায় সবসময় ঘুরতো। তাই একদিন বিকেলে অবসর সময়ে আমি এসব লিখছিলাম আমার কবিতার খাতায়। আমার ননদ যিনি ছিলো, উনি দেখে ফেলেছিলো যে আমি কি লিখছি।

উনি ভেবেছিলেন যে আমি উনাদের নিয়ে বিচার দিয়ে বাড়িতে চিঠি লিখছি। এই কথা আমার স্বামী জানার পর আমাকে অনেক মারধর করে। তখন আমি প্রেগন্যান্ট ছিলাম ৩ মাসের। অত্যাচারের কারণে আমার প্রচুর ব্লিডিং হয়। পরে বুঝতে পারি যে বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে।

এর কিছুদিন পর আমার ডিভোর্স হয়ে যায়।  ডিভোর্সের পর আমি আমার পড়া শুরু করতে চাই। তবে কেউ আমাকে সাহস দিচ্ছিলো না। আমার খুব কষ্ট লাগতো এই ভেবে যে আমি তো পালাইনি, এমনকি খারাপ কোন কাজ করিনি, শুধু পরিবার যেটা চেয়েছে তাই করেছি। তাহলে কেন আমাকে এত বদনাম পেতে হচ্ছে। আমি অনেক কষ্ট করে সবাইকে অনুরোধ করে ক্লাস ৮-এ ভর্তি হই।

আমি আমার শ্বশুরবাড়ি ৬ মাস ছিলাম। তাই ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হয়েছিলো। আমার মা বাবা, নানু, নানা সবাই প্রচুর উৎসাহ দিয়েছিলো। তবে আমার ছোট কাকা-কাকি প্রচন্ড মানসিক অত্যাচার করেছিলো। এখন আমি মেডিকেলে পড়ছি। অনেক যুদ্ধ করেছি, এখনও করছি কিন্তু মনের ভেতর কোথাও যেন একটা কষ্ট থেকেই গেছে।

মা সারাদিন বকা দেয়। এর কারণ আমি দেখতে অতটা সুন্দর নই এবং কোন বিয়ের প্রপোজাল আসেনা, ফলে দিনরাত আমাকে কথা শুনতে হয়। আমার ছোট যে বোন, ও খুব সুন্দর। ও এখন ক্লাস সেভেন এ পড়ছে। ওর সঙ্গেও আমার পরিবার ঠিক একই কাজ করতে চাইছে যেই জঘন্য কাজ ওরা আমার সঙ্গে করেছিলো।

ঐ কাজটা আমি করতে দেইনি। ফলে এখন মানসিক কষ্ট আমাকে প্রতিদিন পেতে হচ্ছে। আমি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করছি। আমি এটা থেকে বের হতে চাই। আমার কি করা উচিত? আমি স্বাভাবিক জীবন চাই। আমি চাইনা কেউ বলুক যে-আমার এক বার বিয়ে হয়েছে। ডিভোর্স প্রাপ্ত মেয়ে। আমাকে কেউ বিয়ে করবেনা।

Related posts