Advertising
hemel
Advertising
hemel

ও শুয়ে বাহিরে রইল, আর ওর দুই বন্ধু এসে আমাকে জোর করে…

আজ আমি সকলের সাথে আমার জীবনের গল্প শেয়ার করবো। মানুষকে খুব বেশি বিশ্বাস বা ভরসা করলে, অপরকে কষ্ট দিলে এবং বাবা মায়ের কথা না শুনলে হয়তো এমনি হয়, কারন তারা কখনও আমাদের খারাপ চান না।সেটা আমি আমার নিজের জীবন থেকে উপলব্ধি করেছি।

আমার নাম সূবর্ণা।আমি তখন অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়তাম। তিন বছর ধরে সাকিলের  সঙ্গে আমার সম্পর্ক চলছিলো। তখন শাকিল MBA Complete করে বেকার। আমার বাবা সাকিলকে মোটেও পছন্দ করতেন না। তাই আমাদের দুজনের সম্পর্কটা বাসায় কেউই মেনে নিতে রাজি হয়নি। বাবা বলতো, সবাই নাকি বলে ও ভালো ছেলে নয়। আমার বাবার বন্ধুর ছেলে আর সাকিল এক সঙ্গে পড়তো। তাই বাবা ওকে ভীষন ভালো করেই চিনতো। সবাই আমাকে অনেক বুঝাতো ওর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার জন্য।

কিন্তু কে শুনে কার কথা, আমি প্রেমে এতই অন্ধ ছিলাম যে আমি সবার অজান্তে ওর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতাম। হঠাৎ একদিন হুট করে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেললো। বাসা থেকে আমাকে কিছু না জানিয়েই নিয়ে যাওয়া হল নানুর বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখি, বিয়ে বাড়ি সাজানো হচ্ছে। আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, কার বিয়ে?

আম্মু বললো- সময় হলে দেখতে পাবি কার বিয়ে!হলুদের রাতে যখন আমাকে সাজানো এবং মেহেদি পড়ানোর জন্য কাজিনরা আসলো, তখন বুঝতে পারলাম আমাকে বিয়ে দেয়ার জন্য সবাই চালাকি করে এভাবে নিয়ে এসেছে। ঐ মুহূর্তে আমার আর কোন রাস্তা খোলা ছিল না পালানোর মত। তাই বাধ্য হয়ে মামাতো ভাইকে বিয়ে করলাম, ওর নাম সিয়াম। সে আমাকে ছোট বেলা থেকেই ভীষন পছন্দ করতো! বাসর রাতে ভীষন কান্না শুরু করলাম আমি। আমার স্বামী আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি কেন কান্না করছি।

তারপর আমি তাকে সব খুলে বললাম সাকিলের ব্যাপারে। আবার তাকে এটাও বললাম যে, কোন দিন তাকে আমি ভালবাসতে পারবো না। সব সময় আমি তাকে আমার ভাই বলেই ভেবেছি, তাই তাকে ভালবাসা কিংবা তার সঙ্গে সংসার করা আমার দ্বারা সম্ভব না। সব শুনে সে বললো, যত দিন না আমি তাকে মন থেকে মেনে নিতে পারছি ততদিন সে আমার কাছে কোন স্বামীর অধিকার ফলাবে না। তখনো সাকিলের সঙ্গে আমার সম্পূর্ণ যোগাযোগ রয়ে যায়। বিয়ের ২২ দিন পর আমি সাকিলের সঙ্গে পালিয়ে যাই। তানজিলই আমাকে বলেছিল, তুমি আমার কাছে চলে আসো। আমরা আবার নতুন করে সংসার শুরু করবো।

আমি ওর মিষ্টি কথায় ভুলে আমার স্বামী সিয়ামকে রেখে চলে গেলাম। যাবার সময় একটা চিঠিতে সব কিছু লিখে গেলাম সবার কাছে। আর সবাই আমাকে খোজা শুরু করলো। আমরা ঢাকা থেকে চলে গেলাম সিলেটে ।তারপর আমরা বিয়ে করে নিলাম। সেখানে ওর বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠলাম। ২-৩ দিন পর আমার বাসায় আমি ফোন করে জানিয়ে দিলাম আমাকে যেন কেউ অযথা না খোঁজে…আমি আর ফিরবো না।

আমরা একটা বাসা ভাড়া করলাম। সেখানেই শুরু করলাম আমাদের দুজনের নতুন সংসার। ১ মাস পর আমি আমার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলাম। সিয়াম সেদিন আমাকে ফোন করে ভীষন কান্না করছিলো, আমি তাকে বললাম আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য। আর বললাম আমাকে ভুলে সে যেন নতুন করে সংসার সাজিয়ে নেয়। ৩ মাস পর আমার মা আমাকে ফোন দিয়ে জানালো বাবা বলেছে আমাদের বাসায় যেতে। তার মানে সবাই আমাদের মেনে নিয়েছে, ক্ষমা করে দিয়েছে। তারপর আমরা বাসায় গেলাম….সবাই ওকে ভালো ভাবেই Accept করলো।

বিয়ের ১ বছর যেতে না যেতেই লক্ষ্য করলাম…সাকিল আমার সঙ্গে  খুব দূর-ব্যবহার করে। মাঝে মাঝে রাতে বাসায় Drinks করে ফিরে। ঝগড়ার সময় গায়েও হাত তোলা শুরু করলো। আমার বাবা-মাও কখনও আমার সঙ্গে এমন করেনি। একদিন রাতে ও ওর দুইটা বন্ধুকে বাসায় নিয়ে আসলো। আমাকে বললো, ওরা সবাই আজ রাতে এখানেই থাকবে আর Drinks করবে। আমি যেন ওদের ভালো করে আপ্যায়ন করি , ওরা যা বলে তাই তাই যেন করি। ওদের মনের সব ইচ্ছে যেন পূরণ করি।

ওরা যদি সন্তুষ্ট না হয় তাহলে আমার খবর আছে, আমার কাছে ব্যাপারটা মোটেও সুবিধার লাগছিল না। রাত ১ টার সময় সাকিল ওর দুই বন্ধুকে আমাদের Bed রুমে পাঠিয়ে দিলো আর ও শুয়ে রইল ড্রইং রুমে। তারা এসে আমাকে জোর করে যা যা করা দরকার তার সবকিছুই করলো। আমি সাকিলকে অনেক ডাকলাম, তবে ও কোন সাড়াই দিলো না। আমি বুঝে গেলাম ও এগুলো ইচ্ছে করে করলো। পরের দিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ওর সঙ্গে আর নয় আমি আমার নিজের বাসায় ফিরে গিয়ে সবাইকে সব বলে দিবো। যে মদ খেয়ে তার বউকে বন্ধুদের হাতে ছেড়ে দেয়, সে যে আরো কি কি করতে পারে সেটা ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছিলো।

যখন আমি চলে যাচ্ছিলাম তখন ও বললো কাল ওর মাথা ঠিক ছিল না তাই ওসব করেছে। আমি যেন সব ভুলে যাই আর ওকে ক্ষমা করে দেই। আমি তো এই নোংরা ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাই চলে যাবার জেদ ধরে রইলাম।

ওর আবার মাথা গরম হয়ে গেলো…রেগে গিয়ে ও আমার বাম কানে এমন জোরে একটা চড় মারলো যে, সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হতে লাগলো। আর আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম… আমাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলো, Treatment এরপর একটু সুস্থ হলাম…কিন্তু কানে খুব ব্যথা। সেখানে জানতে পারলাম আমি প্রেগন্যান্ট। তিন মাস চলে। বাসায় ফিরে ও আমাকে প্রেসার দিলো বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য। এখন বাচ্চা হলে তাকে খাওয়াবে কি !

আমি অনার্স কমপ্লিট করার পর আর ওর একটা ভালো Job হবার পর যেন বেবি নেই। আমি কিছুতেই রাজি হলাম না…প্রথম সন্তান কেউ কি পারে এভাবে নষ্ট করতে ? আমিতো মা !!! এক পর্যায়ে খুব ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।…ও এতই অমানুষে পরিনত হল যে, আমার পেটে লাথি মেরে ও Baby টাকে শেষ করে দিল। সাথে সাথে Bleeding শুরু হলো। তারপর আমি আবার অজ্ঞান হয়ে গেলাম। ঢাকা মেডিক্যালে আমাকে ভর্তি করানো হলো। আমার বাড়ির সবাইকে সংবাদ দেয়া হলো।তাদের বলা হলো, বাথরুমে পড়ে যেয়ে এই অবস্থা হয়েছে। আমি সত্যিটা কাওকে বললাম না ও ছোট হয়ে যাবে তাই।

আমি তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না কি করবো। পর পর তানজিল আমার সঙ্গে তিনটা জঘন্য কাজ করলো। বন্ধুদের দিয়ে নোংরামো, আমার কানে আঘাত এবং আমাদের প্রথম সন্তানকে হত্যা। এত কিছুর পর আমি আর পারছিলাম না ওকে কিছুতেই সহ্য করতে। হাসপাতাল থেকে আমি আমাদের বাসায় চলে যাই। ৪/৫ দিন পর ও আমাকে ফিরিয়ে নিতে আসে। আমাদের বাসায় ক্ষমা চায় আর বলে, এমন কাজ সে আর কখনো করবে না। আমার মা তো জানতেন না ও আমার সাথে ঠিক কি কি করেছে। তাই মাও আমাকে বুঝালো ওর কাছে ফিরে যেতে। বললেন, এমন ঝগড়া তো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হয়েই থাকে। কিন্তু আমি কাওকে সত্যি গুলো বলতে পারছিলাম না। তবুও নিজের মনকে সান্তনা দিয়ে আবারো ফিরে গেলাম ওর কাছে। ক্ষমা করে দিলাম ওকে।

কয়েক মাস আবার সব ভালই গেল। আমি ভাবতে শুরু করলাম ও ভালো হয়ে গেছে। সাকিল আবার Drinks করা শুরু করলো। বাসায় ফিরে অনেক রাত করে, আমি কিছু বললেই গায়ে হাত তোলে। একদিন তুমুল ঝগড়ার সময় ও আমাকে লোহার একটা রড দিয়ে মাথায় বাড়ি দিলো, সঙ্গে সঙ্গে মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হলো। ওই অবস্থায় ও আমাকে রেখে পালিয়ে গেলো। বাসা থেকে চলে যেয়ে আমার বাসায় ফোন দিয়ে বললো আমার বাসায় যেন তাড়াতাড়ি সবাই যায়। আমি সিঁড়ি থেকে পরে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছি।

তারপর আমার আর কিছুই মনে ছিল না। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের বেডে। মাথায় ২৬ টা সেলাই করা হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, আঘাতটা যদি আরেকটু জোরে লাগতো তবে আমাকে আর বাঁচানো যেত না। মায়ের থেকে সব জানতে পারলাম, শুনলাম ও পলাতক রয়েছে। আমার বাবা থানায় একটা ডাইরি করলো। পুলিশ ওকে ধরার জন্য লেগে পরেছে। আমি সুস্থ হয়ে ৮ দিন পর বাসায় ফিরলাম। এইবার আমার মা-বাবা আর কেউই চান না আমি আর ওর কাছে ফিরে যাই। বাবা আমাকে বললেন, আমি তোমার ভালোর জন্যই সেদিন বলেছিলাম, তুমি ওকে বিয়ে করো না….না পারলে নিজে সুখী হতে আর না পারলে অন্যদের সুখি করতে।

Related posts