Advertising
hemel
Advertising
hemel

কখনো ভাবিনি আমার জীবনে এত বড় সংকট আসবে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা। আমার জীবনে এত বড় সংকট আসবে আমি কখনো ভাবিনি। বাবা-মা এবং এক মাত্র ভাই সবাই আমাকে খুব আদর করে, এমন কখনো হয়নি যে তাদের কাছে কিছু চেয়ে পাইনি। যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম তখন এক ক্লাসমেট আমাকে প্রপোজ করে। আমার কল্পনাতে যেমন মানুষের ছবি আঁকা ছিল, তার সাথে ছেলেটির কোনই মিল ছিল না। তবে সেই সময়ে কম বয়সের আবেগে আমি ছেলেটির মন আর ভাঙতে পারলাম না, তার পাশে থাকলাম এবং কথা দিলাম যে সে যদি নিজেকে পড়াশুনা করে ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে তার পাশে আমি সারা জীবন থাকব।

দু’বছর ভালই কাটছিল। এস এস সি রেজাল্টের পর থেকে সমস্যা শুরু, আমি গোল্ডেন এ প্লাস পেলাম কিন্তু সে পেল এ। তবুও আমি তার পাশে থাকলাম, বললাম চেষ্টা চালিয়ে যেতে। কিন্তু এ রেজাল্টে ভাল কলেজে চান্স পাওয়া মুশকিল আর যেসব কলেজ ভাল নয়, সেসব কলেজের পরিবেশও ভাল থাকেনা। সে সেখানে গিয়ে সিগারেট খাওয়া শুরু করলো, আমি তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। কারন সে আমার কথা না শুনে ওই জিনিস স্পর্শ করলো, সে আরও অনেক কিছুই করতে পারে।

ব্রেকআপের পর খুব লোনলি লাগত, তেমন বন্ধু বান্ধবও ছিল না, কলেজে আমি একা হাঁটতাম, তখন একটি ছেলে আমার পাশে হাঁটা শুরু করলো। সে আমাকে গান শুনাতো, ভালবাসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিল, আবারও ফের আমি ফাঁদে পরলাম। তবে ফাঁদ বলছি একারণে, সম্পর্কের প্রথম কদিন সে বাবু হয়ে আসলেও কদিন পরে দেখলাম তার শার্টের হাতায় ময়লা। মানে ঠিক আমার রুচির সঙ্গে মেলে না। এদিকে কিছু ক্লাসমেট-এর ফিসফাসও কানে এলো যে এত সুন্দর মেয়ে শেষে এই ছেলের কাছে ধরা দিল। এসব শুনে মন বিষাক্ত হয়ে, তার সাথে প্রতিদিন ঝগড়া হত। মনে অশান্তি,আমি তার ভিতরের পশুটিকে দেখলাম। সে বিভিন্ন ভাবে আমাকে আঘাত করতে চাইত। এমনকি আমাকে ধর্ষণ-এর হুমকিও দিত। অনেক কষ্টে পরিবারের হস্তক্ষেপের পর মুক্তি পেলাম।

এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। প্রেম ভালবাসা থেকে মন উঠে গেল। সত্যিকার অর্থে তখন আমি আমার প্রিন্স চার্মিং-এর দেখা পেলাম। দেখতে তিনি অনেক সুদর্শন, পড়াশুনায় অনেক ভাল। একেবারে আমার মনের মত। আর কি অবাক কান্ড, সেও আমাকে ভালবাসলো। আমি অনুভব করেছিলাম ও হয়তো আমাকে সত্যিই ভালবাসে। সে আমাকে স্বপ্ন দেখাতো, আমি স্থাপত্যকলা পড়ছি,সে চাইতো আমি যেন মন দিয়ে পড়াশুনা করি। আমিও ভালবাসি তাকে, তাকে নিয়েই ভাবি সারাদিন। ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান প্ল্যান। কিন্তু আগের দু’টা রিলেশনের কথা মাঝে মাঝে মনে হত আর তখন আমি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলতাম। যেমন একটা উদাহরণ দেই, আমার প্রিন্স চার্মিং আমাকে ভালবেসে জড়িয়ে ধরেছিলো, তা অবশ্যই আমার অনুমতি নিয়েই হয়েছিল।

কিন্তু একদিন হঠাৎ করে আমার পুরোনো প্রেমিক আমাকে হুমকি দিয়েছিল। তার কল পেয়ে আমি আবার বিষণ্ণতায় মগ্ন হয়ে সব কেমন গুলিয়ে ফেলি। আমার ভালবাসার মানুষটিকে বলে ফেলি যে সেও আমাকে খারাপ কিছু করেছে, কিন্তু ভালবাসেনি। এতবড় কথাটি শুনে তিনি কেমন যেন আমার থেকে সরে গেলেন। সরে যেতে দেখে আমার আরো খারাপ লাগে, তাকে আমি রাগের মাথায় আরো অনেক ঝাঁঝালো কথা শুনাই। সে সিদ্ধান্ত নিল আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। আমিও সায় জানিয়ে দেই। এও বলে দেই সব ছেলে খারাপ। তারপর আবার রাগ কমলে নিজেই সরি বলে তার কাছে যাই। সে আমাকে গ্রহনও করে। কিন্তু কদিন বাদে আবার আমারই রাগের জন্য ঝগড়া-বিবাদ হয়, আবার ব্রেক আপ। আবার আমি অনুতপ্ত হই।

এই করে করে ৬মাস দু’জনেই অশান্ত। তারপর গত দু’মাস আগে ফাইনাল ব্রেক আপ। কিন্তু কদিন পর মাথা ঠান্ডা করে ভেবে দেখলাম আসলেই আমি বার বার ভুল করেছি। আমি অনুতপ্ত হয়ে তার কাছে আবার ফিরে যাই, আমার বন্ধুদের দিয়ে বলেছি। কিন্তু তিনি আমাকে আর ভালবাসতে পারবে না বলে জানান। কিন্তু পুরানো চিঠি, ছবিগুলি দেখলে আমি বুঝি সে আমাকে কতটা ভালবাসতো। সেই পবিত্র সম্পর্ক আমি নিজেই নষ্ট করেছি, তাই আমি ভাল নেই। প্লিজ আমাকে বলুন আমি কি করে তাকে ফিরে পাবো। ও আমার সাথে কথা বলতে রাজি না। সব জায়গায় ব্লক। আমার দোষ, আমি তাই প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। কি করব আমি? নিজের কাছেই আমি ছোট হয়ে আছি, কিভাবে সব আগের মত হবে? হারানো ভালবাসা আবার কি ফিরে পাবো?
পরামর্শঃ
আপনার কারণে-অকারণে প্রেম করা ও ভুল মানুষদের সাথে প্রেম করার একটা প্রবনতা রয়েছে। আপনি খুব বেশি আবেগ প্রবণ। আর আপনার এই আবেগই আপনার জীবনের সকল সর্বনাশের কারণ। আপনার যে সময়ে নিজের লেখাপড়ার দিকে মনযোগ দেয়া উচিত, ঠিক সেই সময়ে প্রেম করতে গিয়েছেন বারবার। অতি দ্রুত আপনার পরামর্শ আপনার ইনবক্সে পৌঁছে দেওয়া হবে, আমাদের সাথেই থাকুন।

 

Related posts