Advertising
hemel
Advertising
hemel

না ফেরার দেশে চলে গেলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ফুসফুস ক্যান্সারে ভোগছিলেন। (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় রাজধানীর গুলশানের বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর। সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বুধবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথমে সৈয়দ হকের মরদেহ গুলশানে নিজ বাড়িতে নেয়া হবে। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে রাতে লেখকের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

বুধবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমিতে নেয়া হবে সৈয়দ হকের মরদেহ। তারপর বেলা ১১টায় দেশবরেণ্য এই কবির মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। দুপুরে জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে কবির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফনের জন্য সৈয়দ হকের মরদেহ কুড়িগ্রামে নেয়া হবে। সেখানে নিজের নামে বরাদ্দ করা জমিতে সমাহিত হবেন সব্যসাচী এই লেখক। সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণা তাঁর। সৈয়দ শামসুল হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো ‘পরানের গহীন ভেতর’,  হৃৎ কলমের টানে (১ম খণ্ড১৯৯১, ২য় খণ্ড১৯৯৫), খেলারাম খেলে যা, তাস (১৯৫৪) শীত বিকেল (১৯৫৯) রক্তগোলাপ (১৯৬৪) আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭) প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২) সৈয়দ শামসুল হকের প্রেমের গল্প (১৯৯০) জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০) শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯০) একদা এক রাজ্যে (১৯৬১) বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯) বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা (১৯৭০) প্রতিধ্বনিগণ (১৯৭৩) অপর পুরুষ (১৯৭৮) নিজস্ব বিষয় (১৯৮২) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬) গণনায়ক (১৯৭৬) নুরুলদীনের সারা জীবন (১৯৮২), এক মহিলার ছবি (১৯৫৯) অনুপম দিন (১৯৬২), সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), নীল দংশন (১৯৮১), স্মৃতিমেধ (১৯৮৬), মৃগয়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬), স্তব্ধতার অনুবাদ (১৯৮৭)। তাছাড়া প্রচুর জনপ্রিয় গানের গীতিকার তিনি, লিখেছেন চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্যও।

তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৯ অলক্ত স্বর্ণপদক ১৯৮২ আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৬ আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ কবিতালাপ পুরস্কার ১৯৮৩ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, ১৯৮৩ একুশে পদক, ১৯৮৪ জেবুন্নেসা-মাহবুবউল্লাহ স্বর্ণপদক ১৯৮৫ পদাবলী কবিতা পুরস্কার, ১৯৮৭ নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, ১৯৯০ টেনাশিনাস পদক, ১৯৯০ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং গীতিকার মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার।

Related posts