Advertising
hemel
Advertising
hemel

লেখক সৈয়দ হকের চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন ক‌্যান্সার রোগে আক্রান্ত কবির চিকিৎসার সব দায়-দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৈয়দ শামসুল হক রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। সেখানে তার কেমোথেরাপি চলছে।

ফুসফুসের জটিলায় আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্য যান সৈয়দ শামসুল হক। সেখানে তার ক‌্যান্সার ধরা পড়ে। ৮০ পেরোনো এই লেখক ক্যান্সার হতে সুস্থতার ব্যাপারে সেখানকার চিকিৎসকদের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাননি। জীবনের বাকি দিনগুলো দেশে কাটানোর জন্যই গত ১ সেপ্টেম্বর ফিরেছেন তিনি। দেশে ফিরে এই হাসপাতালেই ভর্তি হন সৈয়দ শামসুল হক। তাকে দেখতে শনিবার বিকালে ইউনাইটেড হাসপাতালে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বেশ কিছু সময় সৈয়দ শামসুল হকের সাথে কাটান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে জানিয়েছেন, তিনি বিকাল সোয়া ৪টায় ইউনাইটেড হাসপাতালে যান। প্রায় ৪০ মিনিট সেখানে ছিলেন তিনি। তখন সৈয়দ শামসুল হকের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দীর্ঘ সময় সৈয়দ শামসুল হকের সাথে কথা বলেন। তখন সব্যসাচী এই লেখক আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। ইহসানুল করিম বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের চিকিৎসার সব দায়-দায়িত্ব বহন করবেন প্রধানমন্ত্রী। কবির স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক, পুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হকসহ পরিবারের সদস্যরা তখন হাসপাতালে ছিলেন। বেসরকারি হাসপাতালটির অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক অসীম কুমার সেনগুপ্তের অধীনে চিকিৎসা চলছে এই লেখকের।

লন্ডনে অবস্থানকালে ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে এক স্মরণসভায় অংশ নিয়েছিলেন এই লেখক। কবিতা, নাটক, গল্প-উপন্যাসসহ সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণকারী সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া এই সাহিত্যিকের হাত দিয়ে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ বহু পাঠকপ্রিয় বই এসেছে। তার লেখা নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরুল দীনের সারাজীবন’ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে রয়েছে।

Related posts