Advertising
hemel
Advertising
hemel

রয়-রুটের ব্যাটে পাকিস্তানকে হারাল ইংল্যান্ড

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ান্ডেতে জেতাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা ইংল্যান্ডকে ধরা ছোঁয়ার মধ্যে লক্ষ্য এনে দিয়েছিলেন বোলাররা। ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে পথ দেখিয়েছেন জেসন রয় ও জো রুট। তাদের দুই অর্ধশতকে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৪৪ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড। এই সংস্করণে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এটি নবম জয়। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।

আর আগামী শনিবার লর্ডসে হবে দ্বিতীয় ওয়ান্ডে। বুধবার রোজ বৌলে আগে টস জিতে ব্যাটিং করার সিন্ধান্ত  নেয় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করে পাকিস্তান। ২০১২ সাল থেকে সাউথ্যাম্পটনে ওয়ান্ডেতে প্রথম ইনিংসে গড় ৩১২ রান। ইংল্যান্ড ইনিংসের ৩৪ ওভার শেষে বৃষ্টির জন্য আধা ঘণ্টার জন্য খেলা বন্ধ হয়। খেলা শুরু হলে ইংল্যান্ডের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৮ ওভারে ২৫২ রান।

তবে মাত্র তিন বল খেলা হওয়ার পর আবার বৃষ্টি নামলে সেখানেই ম্যাচের সমাপ্তি হয়। ৩৪.৩ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৯৪ রান। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য তখন ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫১ রান। সে সময় মর্গ্যান ৩৩ ও বেন স্টোকস ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। অ্যালেক্স হেলসকে হারানো ইংল্যান্ড প্রতিরোধ গড়ে রয় ও রুটের ব্যাটে। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই জনে গড়েন ৮৯ রানের জুটি।

শুরুতেই ভাঙ্গতে পারত এই জুটি। মোহাম্মদ আমিরের বলে ছুটে গিয়ে রয়ের ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি সরফরাজ আহমেদ। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা উমর গুলের জন্য এই ক্যাচ হতে পারত খুব সহজ। মাঝখানে কিছুটা অসুস্থ বোধ করা রয়ের দাপুটে ইনিংস শেষ হয় মোহাম্মদ নওয়াজের বলে বাবর আজমের দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়ে। ৫৬ বলে ৬৫ রান করে ম্যাচ সেরা রয় ,৬টি চার ও একটি ছক্কায়। টানা তৃতীয় অর্ধশতক পাওয়া রুট ফিরেন দলের সংগ্রহ দেড়শ’ ছাড়ানোর পরে। রান আউট হওয়ার আগে ৭২ বলে ৬টি চারে ৬১ রান করেন ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ান্ডেতে বিধ্বংসী ইনিংস খেলা শারজিল খান ঝড় তোলার আগেই ফিরে যায়। দ্রুত তাকে অনুসরণ করেন টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ। আগের ১২ ইনিংসে একবারও পঞ্চাশ ছুঁতে না পারা আজহার ফিরতে পারতেন দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই। ব্যক্তিগত নয় রানে একবার হেলস অন্যবার উইকেটরক্ষক জস বাটলার তার ক্যাচ ছাড়েন।  জীবন পাওয়া আজহারকে ঘিরে তখন গড়ে উঠে পাকিস্তানের ইনিংস। আর দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগী ছিলেন বাবর। আজহারের সাথে ৬১ রানের জুটিতে তার অবদান ৪২ বলে ৪০ রান।

আদিল রশিদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন তিনি। রানের গতি বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় ফিরেন আজহার। লেগ স্পিনার রশিদের ঝোলানো বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ঠিক মতো পারেননি আজহার। ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট থার্ড ম্যানে উঠা সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে কোনো ভুল করেননি মইন আলি। ১১০ বলে খেলা আজহারের ৮২ রানের ইনিংসটি ছিল ৯টি চারে। কিন্তু বৃষ্টির বাধায় ১০ মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল পাকিস্তানের ইনিংস। ৪২.১ ওভারে তাদের স্কোর ছিল ২১৮/৪।

সেখান থেকে তিনশ’ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ গড়া সম্ভব ছিল। তবে বিরতিতে ঘটা ছন্দ পতন কাটিয়ে রানের গতি আর বাড়াতে পারেনি পাকিস্তান। খেলা শুরু হওয়ার পর দুই ওভারের মধ্যে ফিরে যান শোয়েব মালিক ও অর্ধ শতক পাওয়া সরফরাজ আহম্মেদ। নওয়াজ ও ইমাদ ওয়াসিম দলের সংগ্রহ আড়াইশ’ পার করেন।

Related posts