Advertising
hemel
Advertising
hemel

ধাক্কা খাই আর বলি ঐ মিয়া ধাক্কা খাইলেন কেন? এভাবেই পকেট কাটতাম

অভাবের তাড়নায় এবং সঙ্গ দোষে ও আরও বিভিন্ন কারনে শিশু কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে নানান রকম সামাজিক অপরাধে। এমনই একজন কিশোর বাসা থেকে পালিয়ে রাজধানী ঢাকায় এসে অন্য মানুষের পকেট কাটা শুরু করে। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক শিশুটি বলে, ভাত না পাওয়ার জন্য এসেছি ঢাকা শহরে। সেই সময় রেল লাইনের পাশ দিয়ে ঘুরছিলাম। তখন একজনের সাথে দেখা হয়। তারপর তার সাথে থাকতে থাকতে পকেট মারা শিখেছি।

এরপর আমাকে আরও একজন পকেট কাটা শিখাইছে। তারপর আমার নারায়গঞ্জ থেকে ঢাকায় গিয়েছিলাম। এরপর আমারা অনেক মেলা বা ভিরের মধ্যে ঢুকতাম। এরপর দেখতাম কার মানি ব্যাগ বড়। তারপর আমার একটা ধাক্কা খাই তারপর বলি ঐ মিয়া ধাক্কা খাইলেন কেন? তারপর ধাক্কা মারতে গিয়ে সেটা নিয়ে নেয়। তারপর আমাদের গ্রুপ লিডারের কাছে টাকা দিতে হয়। তারপর মনে হতো পকেট মার ছেড়ে দিব। আরও মনে হতো বাড়ি গেলে আর আমোনা।

ধাক্কা খাই আর বলি ঐ মিয়া ধাক্কা খাইলেন কেন এভাবেই পকেট কাটতাম  2

তারপর আমার মন কয় সদরঘাট যাই। সদর ঘাট থেকে ঘুরে তারপর আসবো তারপর ট্রেনে উঠলাম তখন পুলিশ আসলো। এবার হাতের ভেতর ধরছে। পুলিশ বলে কৈ যাস আমার বলি বাড়ি যাই। পুলিশ বলে বাড়ি কৈই, আমি বলি কুমিল্লা। তারপর পুলিশ বলে আয় তোকে একটা জিনিস খাওয়াবো……. তারপর সকালে আমাকে ধরে বিকেল ৫টার সময় ছাড়ছে। এরপরে মিরপুর ছিলাম ……….লিডাররা মারধোর করতো…তারপর এখান থেকে সরকারি অশ্রয় কেন্দ্রে আসি।এরপর থেকে এখানেই দিন কাটে আমার।

ধাক্কা খাই আর বলি ঐ মিয়া ধাক্কা খাইলেন কেন এভাবেই পকেট কাটতাম  3

এই প্রসঙ্গে উপ-পরিচালক জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় মানিকগঞ্জের মনোজ কুমার ঘরামী জানান, পকেট কাটা বা অপরাধ মূলক কাজের জন্য মা-বাবার যথেষ্ঠ দ্বায়িত্বে বা সন্তানের প্রতি মা-বাবার খোজ খবর রাখা। সেটা তারা রাখেনি। ফলে সন্তান কুসঙ্গে মিশে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। এই জন্য তাদের ভালো শিক্ষা দিতে হবে তারপর সে যখন বুঝতে পারবে তখন সে আর বিপথে যাবেনা।

আমাদের দেশের অনেক সুবিধা বঞ্চিত শিশু বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে সুযোগ পেলে তারাও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Related posts