Advertising
hemel
Advertising
hemel

একজন বাবার গল্প

একজন বাবার গল্প
লেখক- আল-আমীন আপেল শিক্ষার্থী, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

বৃষ্টিস্নাত সকাল, শরতের শুভ্র আকাশ,মায়াবী জোৎস্না রাত – পৃথিবীতে যাই দেখতে চাই সবই দেখতে পাই। আর যাদের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীতে এসেছি তাদের একজন হচ্ছেন বাবা। অন্য জন মা। মার কাছে শুনেছি আমি যখন মার পেটে তখন বাবা রোজ মাঝ রাতে উঠে আল্লাহর কাছে নাকি প্রার্থনা করতেন যেন আমি ভালভাবে পৃথিবীতে আসি, আমার জন্ম হয়। মা – বাবা অনেক আদর দিয়ে লালন করেন আমাকে। দেখতে দেখতে বড় হই আমি। অনেকটা বছর কেটে গেলো। বাবা যেন আগের মতোই আছেন। এতটুকু অসুস্থ হলে কি ব্যস্তটাই না হয়ে উঠেন !

আমি মাঝে মাঝে বলি, বাবা আমি তো বড় হচ্ছি। সেই ছোট্টটি তো নেই। অসুস্থ হলে এতো চিন্তা করো কেন? কান্নার স্বরে বাবা উত্তর দেয়, বাপ রে তুই যে আমার হৃদযন্ত্র। তোর কিছু হলে আমার যে ভাল লাগে না । এমনি অনেক কথা মনে পড়ছে আজ। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তার কিছুদিন পর একদিন ক্লাশ থেকে ফিরে পড়ার টেবিলের উপর একটা চিরকুট দেখলাম।

“আশির দশক থেকে একটা সেলাই মেশিনই যেই বাবার একমাত্র আয়-যন্ত্র। যন্ত্রটা পুরনো হলেও কাজটাকে সর্বদা নতুন লাগে বাবার। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগে যিনি তার বাবার রেখে যাওয়াটা সেই শেষ স্মৃতি, ষাটের দশকের বাইসাইকেলটাতে চড়ে ছুটে চলেন অদুর শহরে, আগের কাপড় জমা দিয়ে নতুন কাপড়ের সন্ধানে। সেলাই দিয়ে যে দু’পয়সা পায় তা দিয়েই চলে সংসার। চলে না, চালিয়ে নিতে হয় কষ্টে। এমন ঘরের ছেলেদের অপু সাজাটা মানায় না। হৈমন্তীদের ওরা কখনো পায় না। পাওয়ার কল্পনা যে পাপ। মহাপাপ।” চিরকুটের কথাগুলি সব বুঝতে পেরেছিলাম। তাইতো আজকাল মেসে বাবার একটা ছবি পড়ার টেবিলে রাখি। আর চিরকুটটা দেয়ালে লাগিয়ে রেখেছি। যখনই মাথায় অন্য চিন্তার উদয় হতে চায়, তখন একবার বাবার দিকে আর একবার সেই চিরকুটটার দিকে তাকাই। সব ফালতু চিন্তা পালিয়ে যায়।
জানি কথাগুলি সবার কাছে কেমন কেমন মনে হচ্ছে। আসলে এই কথা, এই মুহূর্তগুলি সবার জীবনেরই অংশ। হয়তো ধরণটা একটু ভিন্ন। ভাল থাকুক বাবা। ভাল থাকুক তার প্রিয় সেলাই মেশিনটা আর দাদার রেখে যাওয়া সাইকেলটা। এমনিভাবেই বেড়ে উঠুক সকল বাবার স্বপ্নগুলি। জীবনের প্রতিটা দিন, প্রতিটা
বেলাই হউক ‘বাবা দিবস’।

Related posts