Advertising
Advertising

অনাকাঙ্খিতভাবে যৌবনের প্রথম স্বাদ পেয়েছিলাম ৯শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়

আমার নাম জুঁই। আমার জীবনের ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা আমি এখনও ভুলতে পারি না। ভাইয়া বিষয়টি আপননাদের মাধ্যমে শেয়ার করতে পেরে আমি মন থেকে হলেও কিছুটা হালকা হতে পারব বলে মনে করছি।

আমি অষ্টম শ্রেণীর সমাপনি পরীক্ষা দেওয়ার পরে নবম শ্রেণীতে উঠি। তখন আমার বয়স ছিল ১৫ বছর। শারীরিক গঠনের দিক থেকে আমি ছিলাম একটু উঠতি যৌবনা। দেখতে সুন্দর হওয়ায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রেমের প্রস্তাব এসেছিল আমার কাছে। কিন্তু আমি সেগুলোকে তখনও কোন পাত্তা দিই নি। যথারীতি আমি নবম শ্রেণীতে পড়াশুনা শুরু করি। বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশুনা করায় আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমাদের ক্লাসে তখন বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল মোট ১২ জন। আমার বাবা শিক্ষিত না হওয়ার দরুন আমি যা বলি বাবা তাই বিশ্বাস করত। আমি বাবাকে বললাম বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশুনা অনেক কঠিন। তাই আমাকে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট নিতে হবে। তিনি আমার কথা মত রাজি হয়ে বললেন, তোমার পড়াশুনা করতে যত টাকা খরচ হয় আমি করব। কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, অবশ্যই মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।

আমি তিনটে প্রাইভেট নিলাম। প্রাইভেট পড়ার সময়গুলো ছিল স্কুল টাইমের পড়ে ও আগে। আমি সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বেড় হয়ে পড়তাম আর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ি ফিরতাম। প্রথম প্রথম আমার একটু অসস্থি অনুভব হলেও কয়েকদিন পর ঠিক হয়ে যায়। তিন জন ছেলের মধ্যে আমি একা একটি মেয়ে প্রাইভেট পড়ি। একটু তো অসুবিধা হওয়ার কথাই। যাই হোক আমাদের প্রাইভেট ব্যাচের মধ্যে একটি ছেলে ছিল তার নাম মিলাদ। সে খুব ভাল ছাত্র ছিল এবং একটু দুষ্ট প্রকৃতিরও ছিল। প্রাইভেট ব্যাচ হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যে আমরা খুব ফ্রি হয়ে গেলাম। মিলাদ মাঝে মাঝে আমাকে বলত যে, তুই কারো সাথে প্রেম করিস কিনা? আমি ইয়ার্কি করে বলতাম তেমন কারো দেখা এখনও পাইনি। এভাবে চলতে থাকে। ১ম সাময়িক পরীক্ষার পর আমার আমরা প্রাইভেট পড়া শুরু করি।

একদিন মিলাদ আমাকে বলে যে, তার নাকি একটা মেয়ে পছন্দ হয়েছে। শুধু বলতে পারে না। আমি বললাম যে, তোর হয়ে আমি বলে দিচ্ছি। তুই শুধু আমাকে বল। সে বলল আজ না অন্যদিন তোকে বলব। সে পরেরদিনও আমাকে একই কথা বলে। যত দিন যায় সে একই কথা বলে। আমার আগ্রহও বাড়তে থাকে। একদিন আমি বললাম তোকে আর বলতে হবে না। সে শেষবারের মতো বলল কাল তোকে অবশ্যই বলব। পরেরদিন যখন তাকে বললাম সে বলল আসলে তুই আমার সেই পছন্দের মানুষ। আমি তো অবাক। আমি আর তার সাথে কোন কথা না বলে প্রাইভেট শেষ করে চলে আসি। তারপর থেকে আমি মিলাদের থেকে নিজেকে দুরে সরে রাখার চেষ্টা করি। একদিন বৃষ্টির দিনে আমি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাই। গিয়ে দেখি কেউ আসেনি শুধু মিলাদ একা এসেছে। আকাশে ঘন মেঘ থাকায় রুমটা অন্ধকার অন্ধকার দেখাচ্ছে। আমি আসার পর বৃষ্টির গতি বাড়ায় স্যার এখনও আসেননি। মিলাদ আমাকে বলল যে, তুই রাজি হয়ে যা। আমি বললাম আমি মরে গেলেও রাজি হব না। বাহিরে শন শন বাতাস আর বৃষ্টির কারনে আমার ভেতরে তখন খুব ভয় কাজ করছিল। আমি বাড়ান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম আর মিলাদ রুমের ভেতরে ছিল। কিছুক্ষন পরে মিলাদ বাহিরে বের হয়ে ব্যাথরুমে গেল।

আমি তখন একা বাহিরে দাড়িয়ে না থেকে ঘরের ভেতরে ঢুকলাম। সঙ্গে সঙ্গে মিলাদ এসে রুমের দরজা লাগিয়ে দিল। আমি ভীত কন্ঠে বললাম মিলাদ দরজা খোল। আমি বাহিরে যাব। কে শোনে কার কথা। দরজার লকটা উঠিয়ে দিয়েই সে আমাকে জোর করে জাপটে ধরল। আমি চিৎকার দিচ্ছিলাম। কিন্তু সে কোন কিছুতেই ভয় পাচ্ছিল না। উল্টো আমাকে বলছিল তোর যত ইচ্ছে চিৎকার দে। লোকজন জানলে আমার কোন বিপদ হবে না। সে আমাকে রুমের ব্রেঞ্জেই জোর করে শুয়ে গালে, ঠোটে ও বুকে চুমু খাচ্ছিল। আর আমি শুধু চিৎকার করছিলাম।সেখানে আমার চিৎকারের কোন মূল্য তার কাছে ছিল না। এভাবে পাঁচ মিনিট চলার পর আমার নিঃশ্বাস ভারি হতে লাগলো। আমি আর চিৎকার করতে পারছিলাম না। আমি শুধু চুপ করে রইলাম। মিলাদ তার ইচ্ছে মতো আমাকে একেবারে নগ্ন করে ফেললো। এরপর আমি আর সহ্য করে থাকতে পারলাম না। আমিও তাকে এসব কাজে সাহায্য করতে লাগলাম। দুজনেরই ভালো লাগতে শুরু করল। যেখানে বসে আমরা প্রাইভেট পড়ি সেখানেই সে আমার সাথে সবকিছু করল। সেদিন আর প্রাইভেট পড়া হলো না। আমি বাড়ি চলে আসলাম। আর ভাবতে লাগলাম আমি এটা কি করলাম। আমি তবুও মিলাদকে মন থেকে মেনে নিতে পারি নি। পরবর্তিতে সে আমাকে এসব কাজের জন্য বহুবার রিকুয়েস্ট করেছে। কিন্তু আমি আর তাকে পাত্তা দিই নি। মাঝে মাঝে সুযোগ পেলেই সে আমাকে জরিয়ে ধরত আর বুকে হাত দিত। আমি অসহ্য বোধ করতাম। তার হাত থেকে বাঁচার জন্য আমি তাকে সবসময় এড়িয়ে চলতাম।

এখন আমি একটি সরকারী জব করি। কিন্তু আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই দিনটির কথা আজও আমি ভুলতে পারি না।

Related posts