Advertising
hemel
Advertising
hemel

শিরোপাটি বাংলাদেশ না ভারতের?

ভারত শক্তি-সামর্থ, র‌্যাংকিং পরিসংখ্যান, যাই বলা যাক না কেন, সব দিক থেকে এগিয়ে তারা। বাড়তি উজ্জীবিত বাংলাদেশ শিবির স্বাগতিক বলে। ক্রিকেটীয় ভদ্রতার খাতিরে ২ দল সমীহ করছে একে অপরকে। ভেতরে ভেতরে শিরোপা জেতার সুতীব্র বাসনা  ভারত-বাংলাদেশের। ছাড় দিতে চাইবে না কেউ এক বিন্দুও। ২২ গজের কমব্যাট জোনে রোমাঞ্চের হাতছানি আভাস পাওয়া যাচ্ছে তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনার। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম যেন নয়, রবিবার তা হয়ে যাবে মহারণের ময়দান। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঝড় তুলতে প্রস্তুত তাসকিন, মাশরাফি, আল আমিনরা। ব্যাটকে খোলা তরবারি বানাতে প্রস্তুত বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিংরা।

এশিয়া কাপের টি-টোয়ন্টিতে ফরম্যাটের ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত।  বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায়  ম্যাচটি শুরু হবে। এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি শিরোপা ইতিহাস ধরুন। এই পর্যন্ত ভারত  টুর্নামেন্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কার সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৫বার। আর রানার্স আপ হয়েছে ৩বার। এর আগে ১২ আসরের মধ্যে ৮বারই ফাইনাল খেলেছে ভারত। বাংলাদেশে এ নিয়ে ২য় বারের মতো ফাইনালে উঠেছে কিন্তু শিরোপা জেতা হয়নি একবারও। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানের হারের তিক্ত স্মৃতি এখনও কাঁদায় সাকিব-মুশফিকদের। ৪বছর পর মিরপুরে আবারো এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের হাতছানি বাংলার টাইগারদের হাতে।

এবারও কি আগের মতো কান্না, নাকি শিরোপা জয়ের উদ্ভাসিত আলোয় মুখরিত হবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। ওয়ান্ডে ভারতকে হারানোর স্মৃতি বেশ উজ্জ্বল বাংলাদেশের। গত বছর ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ৩ ম্যাচের ওয়ান্ডে সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। যেখানে ছিল কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান বিস্ময়। কিন্তু সেই কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান নেয় ফাইনালে। ফরম্যাটটি ওয়ান্ডে নয়, টি-টোয়েন্টি এর ফলে ভারতও চোখ রাঙ্গাচ্ছে পুরোদমে। এই ফরম্যাটে এখনও ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলার টাইগাররা। আগের ৩ বারের মোকাবেলায় জয়ী হয়েছে ভারত, হারতে হারতে কোণঠাসা যেন টাইগাররা।

র‌্যাংকিংয়ের দিক থেকে বিবেচনা করলেও বাংলাদেশের লড়াইটা অসমই। টি-টোন্টির ক্রিকেটের র‌্যাংকিংয়ে ভারত রয়েছে ১ নম্বরে। সেখানে দশম অবস্থান বাংলাদেশের। চলমান এশিয়া কাপ বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ টাইগাদের। শুরুতে ভারতের কাছে হারলেও, পরে আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর জয়ে দলের খোলনলচে পাল্টে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও টিম টাইগার্স সমীহ জাগানো দল, তা মানছে অনেকই। মহেন্দ্র সিং ধোনি যেমন বলছে, ঘরের মাঠে ফেবারিট বাংলাদেশ টিম।

তবে টানা জয়ের ধারায় রয়েছে ভারতও । অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০ তে এবং ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। বাংলাদেশের মাটিতে এশিয়া কাপের লিগ পর্বের টানা ৪ ম্যাচ জিতেছে  টিম ইন্ডিয়া। ৮পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে ভারত। সেখানে বাংলাদেশ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে।  ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে ছিল ৪ পেসার। ফাইনালেও তেমনটি থাকবে হয়তো।  কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান না থাকায় মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন ও আল আমিনের সাথে গতির ঝড়ে যোগ দিতে পারে তরুণ আবু হায়দার রনি। ফাইনাল ম্যাচে বাদ পড়তে পারে মিথুন। মিথুনের পরিবর্তে আসতে পারে নুরুল হাসান সোহান। উইকেটের পেছনে থাকবেন নুরুল হাসান সোহান, সেক্ষেত্রে সাধারণ ফিল্ডার হিসাবে খেলতে হতে পারে বাংলার টাইগার মুশফিকুর রহিমকে।

আশা করা হচ্ছে উইকেট সবুজ থাকবে। ফাইনাল ম্যাচে সাকিবের খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অনুশীলনের সময় উরুতে বল লাগায় ব্যথা পেয়েছে সাকিব আল হাসান। যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম আশার বাণী শুনিয়েছে, ম্যাচের আগে সাকিব আর হাসান ফিট হয়ে যাবে।’ এই দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের জন্য সেরা টুর্নামেন্ট ও সেরা প্রতিপক্ষ বলা যায়। এশিয়া কাপে যেমন তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, ভারতকে পেলে তার ব্যাট জ্বলে ওঠে। সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে দ্রুত কিছু রান তুলে দিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে বলে ধারণা  অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার।

কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে ফাইনাল ম্যাচে মিস করবে সবাই। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফিও তাই মনে করছে। মাশরাফি বলে, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় গত ম্যাচে তাসকিন-আল আমিন সবাই ভালো করছে। দলের জন্য ভালো ব্যাপার যে, সেরা বোলারটি না থাকার পরও অন্যরা দায়িত্ব নিচ্ছে ও পারফর্ম করছে। এটা আমাদের জন্য এটা ভালো লক্ষণ। টপ অর্ডারে সাকিব আর হাসান-তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকার-সাব্বির রহমান-মুশফিকুর রহিম, সবাই ম্যাচ বদলে দিতে পারে। সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে ভালো ম্যাচ হবে।’ ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে ৬ ব্যাটসম্যানই দুর্দান্ত। ৬ জনার মধ্যে যে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ভালোভাবে চাপে রেখেছিল ভারতকে। রোহিত শর্মা একবার লাইফ পাওয়ায় একাই ম্যাচ জিতিয়ে নিয়ে যায়। বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং দারুণ ফর্মে রয়েছে। শুধু ব্যাটিং নয়, ভারতের পেসার জাসপ্রিত বুমরা ভিন্ন স্টাইলের বোলিংয়ের সাথে দারুণ সুইং করতে পারে। হার্দিক পান্ডে ভারতের উইকেট টেকার বোলার। সব মিলিয়ে বারুদে উত্তাপের আবহ বিরাজ করছে ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে। শেষ হাসি কে হাসবে, মাশরাফি বিন মর্তুজা না মহেন্দ্র সিং ধোনি? সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজকে রাতে।

Related posts